মাসদাইরে বিকাশ ব্যবসায়ীক হত্যার প্রধান আসামী জাকিরকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা থানার পুলিশ।
হারুন অর রশিদ সাগর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:-
শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২৬ ফতুল্লা থানাধীন ৬৫ শহীদ সাব্বির আলম খন্দকার রোড, মাদসাইর, জনৈক শাহাদাৎ হোসেন এর ৪র্থ তলা বিল্ডিংয়ের ৩য় তলায় আসামিদের ভাড়াটিয়া কক্ষ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলাটি রুজুর পর ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে হত্যায় জড়িত *০৩ (তিন) জন* আসামিকে গ্রেফতারসহ হত্যায় একটি পুরাতন তিন চাকা বিশিষ্ট ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা, বিকাশের কাজে ব্যবহৃত ০৪টি মোবাইল ফোন, তার ব্যবহৃত ব্যাগ, বিকাশ থেকে উত্তোলিত নগদ-৮৬,০০০-/ (ছিয়াশি হাজার) টাকা ও ভিকটিম এর দুপুরের খাবারের টিফিন ক্যারিয়ার উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায় গত ০১/০৭/২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ০৮:০০ ঘটিকায় ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর বাজারস্থ “সুমাইয়া টেলিকম” এর ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন (৬১) নিজ বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১০৩, তারিখ-০১/০৭/২০২৬) করা হয়। পরদিন ০২/০৭/২০২৬ তারিখ ভোরে ফতুল্লা থানাধীন জামতলা এলাকায় প্যারিসবাগ গেইট সংলগ্ন সড়কের পাশে তোষকে মোড়ানো অবস্থায় একটি অজ্ঞাতনামা পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের স্বজনরা মরদেহটি মোতালেব হোসেনের বলে শনাক্ত করেন। সুরতহাল করার সময় নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়।
পরস্পর যোগসাজসে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ডিসিস্ট মোতালেব হোসেন (৬১) কে হত্যা করে। হত্যার পর হত্যার রহস্য গোপন করার জন্য মৃত দেহটি তোষক দ্বারা পেঁচিয়ে অটো গাড়ী দিয়ে জামতলা এলাকায় প্যারিসবাগ গেইট সংলগ্ন সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। মূলত আসামি মোঃ জাকির হোসেন ডিসিস্ট মোতালেব এর নিকট ২০,০০০/-(বিশ) হাজার টাকা ধার চায়। ডিসিস্ট তাকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি করে এবং তাকে চর থাপ্পর মারে। আসামি মোঃ জাকিরকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি ও মারধর করা এবং ডিসিস্ট এর মোবাইলের বিকাশ অ্যাপস থেকে টাকা আত্মসাতের জন্য আসামি জাকির ও তার সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
মামলাটি রুজুর পর ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে হত্যায় ব্যবহৃত একটি পুরাতন তিন চাকা বিশিষ্ট ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা, বিকাশের কাজে ব্যবহৃত ০৪টি মোবাইল ফোন, তার ব্যবহৃত ব্যাগ, বিকাশ থেকে উত্তোলিত নগদ-৮৬,০০০-/ (ছিয়াশি হাজার) টাকা ও ভিকটিম এর দুপুরের খাবারের টিফিন ক্যারিয়ার উদ্ধারসহ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ জাকির হোসেনসহ মোট ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলোঃ ১। মোঃ জাকির হোসেন (৪৭), পিতা-মোঃ জিন্নাত আলী, মাতা-জাহেদা বেগম, সাং-বীরতারা, থানা-শ্রীনগর, জেলা-মুন্সীগঞ্জ, বর্তমানে-মাসদাইর তালা ফ্যাক্টরীর মোড় (শীপন এর বাড়ীর ভাড়াটিয়া), থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ
২। মোঃ ওমর ফারুক (২২), পিতা-মৃত রানা, মাতা-রীনা বেগম, সাং-সাপাটবাড়ী শারপুকুর, থানা-আদিতমারী, জেলা-লালমনিরহাট, বর্তমানে-মাসদাইর (জনৈক মিজান এর বাড়ী), থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ
৩। মোঃ সোহেল (৫১), পিতা-মৃত আঃ মজিদ মিয়া, মাতা-আমেনা বেগম, সাং-মাসদাইর লিচুবাগ (মোহাম্মদ কাজী এর তিনতলা বাসা), থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ (ভাসমান)
গ্রেফতারকৃত আসামীদের মধ্যে ০২/০৭/২০২৬ তারিখ রাত্র ২১.১০ ঘটিকার সময় ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর ইদগাহ এলাকা হতে এজাহার নামীয় ৫নং আসামি মোঃ ওমর ফারুক (২২) কে গ্রেফতার করা হয় এবং তার তথ্য দেওয়া মতে ০২/০৭/২০২৬ তারিখ রাত্র ২১.৩০ ঘটিকার সময় ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর এলাকা হতে এজাহার নামীয় ৬নং আসামি মোঃ সোহেলকে তার গ্যারেজ হতে গ্রেফতার করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যা কান্ডের মূল হোতা ১নং আসামি মোঃ জাকির হোসেন (৪৭) কে ০৩/০৭/২০২৬ তারিখ ভোর ০৪.৩০ ঘটিকার সময় নারায়নগঞ্জ বন্দর থানাধীন ছেলসারদি এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।
আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে
১। ডিসিস্ট এর ব্যবহৃত একটি TECNO SPARK KM4 এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি NOKIA স্মার্টফোনসহ দুইটি বাটন মোবাইল।
২। নগদ ৮৬,০০০ (ছিয়াশি হাজার) টাকা
৩। ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ফতুল্লা শাখা একটি চেক বই ও একটি ভিসা কার্ড।
৪। ভিকটিমএর দুপুরের খাবারের একটি টিফিন ক্যারিয়ার।
৫। একটি পুরাতন তিন চাকা বিশিষ্ট ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা।
৩ জন আসামি মধ্যে হত্যা কাণ্ডের মূল হোতা মোঃ জাকির হোসেন (৪৭) বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
