
রাজধানী নয়পল্টন গুলিস্তান কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে এক যুবকের কাটা দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করেছে পুলিশ
দৈনিক মায়ের আঁচল রিপোর্ট বিশেষ প্রতিনিধি, হারুন অর রশিদ সাগর:-
জানা গেছে, রাজধানীর নয়াপল্টন, গুলিস্তান ও কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে এক যুবকের কাটা দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাড়ে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে এই তিন জায়গা থেকে কালো পলিথিনে শরীরের কাটা অংশগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে মাথাসহ বাকি অংশ এখনও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় শাহীন আলম (২১) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে নিহত ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে। তার নাম মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ (৩০)। বাড়ি নরসিংদীর শিবপুরে। তিনি গণস্বাস্থ্য হোমিও নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ ও মতিঝিল হীরাঝিল হোটেলের কর্মচারী শাহীন আলম মতিঝিলের কবি জসীম উদ্দিন রোডের একটি ফ্ল্যাটের দুই কক্ষে দুজন থাকতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে ওবায়দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন শাহীন আলম। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেছেন, ওবায়দুল্লাহ তাকে নানাভাবে অপমান করতেন। এমনকি পরিবার নিয়েও কটূক্তি করতেন। এ কারণে তিনি ওবায়দুল্লার ওপর ক্ষুব্ধ হন। শুক্রবার রাতে বাসায় তাকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে টুকরো করা হয়। প্রতিটি অঙ্গ আলাদা কালো পলিথিনে ঢোকান তিনি। এরপর নিজের সাইকেলে লাশের টুকরোগুলো নিয়ে বের হন। প্রথমে রাত ১২টা ১০ মিনিটে নয়াপল্টনে স্কাউট ভবনের সামনের রাস্তায় একটি কাটা পা ফেলেন। পরে গুলিস্তানে স্টেডিয়ামের ১৩ নম্বর গেটে দুটি হাত ফেলা হয়। কমলাপুর রেলস্টেশনে ফেলে আসেন আরেকটি কাটা পা।
পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী সমকালকে বলেন, শুক্রবার রাত ২টার দিকে প্রথমে নয়াপল্টনে স্কাউট ভবনের সামনের রাস্তায় কালো পলিথিনে একটি কাটা পাওয়া যায়। এরপর শরীরের অন্য অংশগুলোর খোঁজ চালানো হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় গুলিস্তান স্টেডিয়ামের ১৩ নম্বর গেটের কাছে দুইটি কাটা হাত উদ্ধার করা হয়। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে কমলাপুর স্টেশনের প্লাটফর্মে আরও একটি পা পাওয়া যায়। পরে আঙুলের ছাপ থেকে তার পরিচয় শনাক্ত হয়।
পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, স্কাউট ভবনের সামনে কাটা পা ফেলার দৃশ্য সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তাতে দেখা যায়, কালো পলিথন ফেলে সাইকেল নিয়ে এক ব্যক্তি চলে যাচ্ছে। ওই ফুটজে বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত শাহীন আলমকে শনাক্ত করা হয়। এরপর দুপুরে হীরাঝিল হোটেল থেকে তাকে আটক করা হয়। সাইকেল ও হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাথাসহ শরীরে বাকি অংশ উদ্ধারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।