নারায়ণগঞ্জে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের জেরে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লার ২ এসিল্যান্ড বদলি।
হারুন অর রশিদ সাগর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:-
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের আকস্মিক পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দু’জনকে বদলি করা হয়েছে।
তবে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানিয়েছেন, দুই এসিল্যান্ডের একজনকে নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে এবং অপরজনকে প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের ঘটনায় বদলি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার দেবযানী করকে নিয়মিত বদলির আদেশে খুলনায় এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমাকে প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের ঘটনায় চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে।’
এদিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার সাদিয়া আক্তারকে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হলেও তিনি এখনো একই পদে বহাল রয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের ঘটনায় সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের মোট ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
তিনি জানান, নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও কয়েকজনের বিষয়েও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ আগস্ট সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ভূমি অফিস পরিদর্শনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেককেই কর্মস্থলে পাননি। অথচ তাদের অনুপস্থিত থাকার পরও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই স্বাক্ষর করা ছিল।
নারায়ণগঞ্জে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন; ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শো-কজ ১০ দিন আগে নারায়ণগঞ্জে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন; ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শো-কজ নোটিশে এ ঘটনাকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এটি সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮-এর ‘খ’ ধারায় বর্ণিত অপরাধের শামিল। পাশাপাশি যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা ২০১৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন এবং গাড়িচালক নাদিম হায়দার।
এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতও নোটিশ পেয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। যারা নির্ধারিত সময়ের বেশি একই অফিসে কর্মরত আছেন, তাদের তালিকা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তাদের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।