৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পবিত্র আল-কোরআন অবমাননার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে সোনারগাঁও থানা পুলিশ । পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান এর নেতৃত্বে ফতুল্লা মডেল থানার নরসিংহপুর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪২ জন মাদকসেবী গ্রেফতার। নারায়ণগঞ্জে জেল বন্দিদের মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও গার্মেন্টস প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত। बीरगंज की मुख्य सड़क विस्तार में धार्मिक स्थलों का संरक्षण/নেপালের বীরগঞ্জের প্রধান সড়ক সম্প্রসারণে ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ এর শুভ উদ্বোধন। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের সাথে BKMEA, NCCI ও We Are Volunteers-এর প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ। নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার কুতুবপুর লাকিবাজার মাদকবিরোধী কমিটি গঠন প্রসঙ্গে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৫ জন গ্রেফতার। নারায়ণগঞ্জ বেকার যুবক-যুবতীদের আত্নকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন হয়েছে। জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিছন্নতা অভিযানের কঠিন নির্দেশনা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ডিসি।

দ্বারিদ্র কোন বাধা নয়, ইচছা শক্তিই মানুষের প্রকৃত শক্তি দেখিয়ে দিলেন পুলিশের কনষ্টরবল হেলাল মুন্সি। মায়ের আঁচল রিপোর্ট

হারুন অর রশিদ সাগর, নারায়ণগঞ্জ
  • Update Time : সোমবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫,
  • 232 Time View

দ্বারিদ্র কোন বাধা নয়, ইচছা শক্তিই মানুষের প্রকৃত শক্তি দেখিয়ে দিলেন পুলিশের কনষ্টরবল হেলাল মুন্সি।।

দৈনিক মায়ের আঁচল রিপোর্ট,মাহবুব হোসেন মেজর দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

হেলাল মুন্সি—বাংলাদেশ পুলিশের একজন সাধারণ কনস্টেবল। কর্মস্থল সিআইডি মালিবাগ হেডকোয়ার্টার্স। ত্রিশ বছরের চাকরি জীবনে দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করলেও, বুকের গভীরে লালন করেছেন এক অপূর্ণ স্বপ্ন—বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। কিন্তু আঠারো বছর বয়সেই সংসারের অভাব-অনটন তাকে সেই স্বপ্ন থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুলিশে যোগ দেন।

তবুও স্বপ্নের প্রদীপ নিভে যায়নি। তিনি সেটি জ্বালিয়ে দিয়েছেন নিজের সন্তানের চোখে। দেখিয়ে দিলেন বিশ্ববাসীকে।

পুলিশ কনষ্টেবল মোঃ হেলাল হোসেনের ছেলে মোঃ উবায়দা এক অসাধারণ প্রতিভা। উবায়দা ফরিদপুর জেলার এসএসসিতে প্রথম হয়েছিল। পরে নটরডেম কলেজে পড়াশোনা করে একের পর এক অর্জনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, বুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, এমআইএসটি—বাংলাদেশের প্রায় সব শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। বর্তমানে সে গাজীপুর আইআইটিতে অধ্যয়ন করছে।

অডিটরিয়ামে দাঁড়িয়ে হেলাল যখন ছেলের সাফল্যের গল্প শোনাচ্ছিলেন, তার কণ্ঠে ছিল গর্ব, চোখে ছিল উজ্জ্বল স্বপ্ন।

পুলিশ কনষ্টেবল মুন্সি মোঃ হেলাল হোসেন বলেন “আমি কনস্টেবল হয়েছি অভাবের কারণে, কিন্তু আমার ছেলে যেন কোনো সীমাবদ্ধতার কাছে হার না মানে। আল্লাহর রহমতে সে ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে এসএসসি পর্যন্ত সবসময় প্রথম হয়েছে। আজ সে আমাদের স্বপ্ন পূরণ করছে।”

ঐ দিন পুরো হলঘর ছিল নিস্তব্ধ। এত সিনিয়র অফিসারদের ভিড়েও একজন কনস্টেবলের অকপট কথায় সবাই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল। কারো চোখে জল, কারো মনে অনুপ্রেরণা।

এটি কোনো হতাশার কান্না নয়—এটি সংগ্রামের জয়গান, আত্মবিশ্বাসের অশ্রু। একজন সাধারণ বাবার অটল বিশ্বাস প্রমাণ করেছে—স্বপ্ন কখনো থেমে থাকে না, যদি পরিবারে থাকে ভালোবাসা, ত্যাগ আর অধ্যবসায়।

মোঃ হেলাল মুন্সির গল্প আজ হাজারো অভিভাবকের প্রেরণা। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন—দারিদ্র্য কোনো বাঁধা নয়, ইচ্ছাশক্তিই মানুষের প্রকৃত শক্তি। আমার ছেলের জন্য সকলেই দোয়া করবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category