২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। মায়ের আঁচল রিপোর্ট রৌমারী সীমান্তে ৯জনকে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি ও স্হানীয় বাসিন্দারা। মায়ের আঁচল রিপোর্ট প্রসংশোনীয় ভূমিকায় কাজ করে যাচ্ছেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক অসহায় গরিব দুঃখি ও মেহনতি মানুষের জনদরদি মোঃ জাকির হোসেন। মায়ের আঁচল রিপোর্ট সোনারগাঁওয়ের পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে নবনির্মিত ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার ভবন’ এর শুভ উদ্বোধন । মায়ের আঁচল রিপোর্ট সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ভাবনা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মায়ের আঁচল রিপোর্ট কেন্দ্রীয় যুবদলের বিজ্ঞপ্তিতে জোসেফ নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কেউ নয়। মায়ের আঁচল রিপোর্ট ডেঙ্গু প্রতিরোধ,নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পালন। মায়ের আঁচল রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র আইভী মুক্তি পেয়েছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে। মায়ের আঁচল রিপোর্ট মধ্যনগরে ১০১ জন কোরআনের হাফেজকে সংবর্ধনা। মায়ের আঁচল রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ডিসি এসপির যৌথ উদ্যোগে পথচারী ও সাধারণ মানুষদের মাঝে খাবার স্যালাইন বিতরণ । মায়ের আঁচল রিপোর্ট

দ্বারিদ্র কোন বাধা নয়, ইচছা শক্তিই মানুষের প্রকৃত শক্তি দেখিয়ে দিলেন পুলিশের কনষ্টরবল হেলাল মুন্সি। মায়ের আঁচল রিপোর্ট

হারুন অর রশিদ সাগর, নারায়ণগঞ্জ
  • Update Time : সোমবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫,
  • 192 Time View

দ্বারিদ্র কোন বাধা নয়, ইচছা শক্তিই মানুষের প্রকৃত শক্তি দেখিয়ে দিলেন পুলিশের কনষ্টরবল হেলাল মুন্সি।।

দৈনিক মায়ের আঁচল রিপোর্ট,মাহবুব হোসেন মেজর দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

হেলাল মুন্সি—বাংলাদেশ পুলিশের একজন সাধারণ কনস্টেবল। কর্মস্থল সিআইডি মালিবাগ হেডকোয়ার্টার্স। ত্রিশ বছরের চাকরি জীবনে দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করলেও, বুকের গভীরে লালন করেছেন এক অপূর্ণ স্বপ্ন—বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। কিন্তু আঠারো বছর বয়সেই সংসারের অভাব-অনটন তাকে সেই স্বপ্ন থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুলিশে যোগ দেন।

তবুও স্বপ্নের প্রদীপ নিভে যায়নি। তিনি সেটি জ্বালিয়ে দিয়েছেন নিজের সন্তানের চোখে। দেখিয়ে দিলেন বিশ্ববাসীকে।

পুলিশ কনষ্টেবল মোঃ হেলাল হোসেনের ছেলে মোঃ উবায়দা এক অসাধারণ প্রতিভা। উবায়দা ফরিদপুর জেলার এসএসসিতে প্রথম হয়েছিল। পরে নটরডেম কলেজে পড়াশোনা করে একের পর এক অর্জনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, বুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, এমআইএসটি—বাংলাদেশের প্রায় সব শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। বর্তমানে সে গাজীপুর আইআইটিতে অধ্যয়ন করছে।

অডিটরিয়ামে দাঁড়িয়ে হেলাল যখন ছেলের সাফল্যের গল্প শোনাচ্ছিলেন, তার কণ্ঠে ছিল গর্ব, চোখে ছিল উজ্জ্বল স্বপ্ন।

পুলিশ কনষ্টেবল মুন্সি মোঃ হেলাল হোসেন বলেন “আমি কনস্টেবল হয়েছি অভাবের কারণে, কিন্তু আমার ছেলে যেন কোনো সীমাবদ্ধতার কাছে হার না মানে। আল্লাহর রহমতে সে ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে এসএসসি পর্যন্ত সবসময় প্রথম হয়েছে। আজ সে আমাদের স্বপ্ন পূরণ করছে।”

ঐ দিন পুরো হলঘর ছিল নিস্তব্ধ। এত সিনিয়র অফিসারদের ভিড়েও একজন কনস্টেবলের অকপট কথায় সবাই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল। কারো চোখে জল, কারো মনে অনুপ্রেরণা।

এটি কোনো হতাশার কান্না নয়—এটি সংগ্রামের জয়গান, আত্মবিশ্বাসের অশ্রু। একজন সাধারণ বাবার অটল বিশ্বাস প্রমাণ করেছে—স্বপ্ন কখনো থেমে থাকে না, যদি পরিবারে থাকে ভালোবাসা, ত্যাগ আর অধ্যবসায়।

মোঃ হেলাল মুন্সির গল্প আজ হাজারো অভিভাবকের প্রেরণা। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন—দারিদ্র্য কোনো বাঁধা নয়, ইচ্ছাশক্তিই মানুষের প্রকৃত শক্তি। আমার ছেলের জন্য সকলেই দোয়া করবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category