আনিসুল ইসলাম সানির ৬৭তম জন্মদিন পালন ও মায়ের আঁচলের শুভেচ্ছা বিনিময়
দৈনিক মায়ের আঁচল রিপোর্ট নিজস্ব প্রতিনিধি:-
শনিবার ২০ জুন ২০২৬, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, দৈনিক দেশের আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক আনিসুল ইসলাম সানির ৬৬তম জন্মদিন। ১৯৬০ সালের আজকের এই দিনে নারায়ণগঞ্জ শহরের ১নং বাবুরাইলের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। আজ তিনি ৬৬ বছর পূর্ণ করে ৬৭ বছরে পদার্পণ করলেন।
আনিসুল ইসলাম সানি এক ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবারের সন্তান। তাঁর প্রয়াত পিতা মোঃ সামসুল ইসলাম ছিলেন নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক এবং নারায়ণগঞ্জ কো-অপারেটিভ টাউন ব্যাংকের চেয়ারম্যান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে তৎকালীন অসহযোগ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। যুদ্ধ চলাকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানেও তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল।
বাবার এই দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমান্তরালে তাঁর প্রয়াত মাতা জাহানারা ইসলামও রেখে গেছেন অনন্য রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কীর্তি। তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ শহর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সহ-সভানেত্রী। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ছাত্রনেতাদের কাছে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ‘আপা’ কিংবা ‘ভাবি’ হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সড়কস্থ উকিলপাড়া জামে মসজিদের ভূমিটি তিনিই ওয়াক্ফ করে যান, যা বর্তমানে আনিসুল ইসলাম সানি পরিচালনা করছেন। পারিবারিক জীবনে তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বর্তমানে কেবল সানি ও তাঁর এক ছোট বোন জীবিত আছেন।
বিএনপি’র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলীয় রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আনিসুল ইসলাম সানি। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও জেলা জাগদলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজপথে সাহসী নেতৃত্ব দেন। একই সাথে, বিএনপি’র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৭৮ সাল থেকেই তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি জাসাস জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে সইতে হয়েছে নানা জুলুম ও নির্যাতন। বহুবার কারাবরণসহ শিকার হয়েছেন অসংখ্য মামলা ও হামলার। তবে কোনো প্রতিকূলতাই তাঁকে আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি, বরং তাঁর বাড়িটিই হয়ে উঠেছিল স্থানীয় রাজনীতির প্রধান দুর্গ। তাঁর এই নিজস্ব বাসভবনেই একসময় গড়ে উঠেছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র কার্যালয়, যা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজে এসে উদ্বোধন করেছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের বহু ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং দলীয় কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হতো তাঁর এই বাড়িটি থেকেই।
রাজনীতির পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আনিসুল ইসলাম সানি একটি অত্যন্ত সুপরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। তিনি নারায়ণগঞ্জ নাট্য সম্প্রদায়, প্রকাশ ক্লাব এবং ঢাকার আজকাল নাট্য সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। এ ছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় নাট্য সংস্থার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি দুই মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
তিনি ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড এবং বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। গণমাধ্যমের সাথে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তিনি দীর্ঘদিন জনপ্রিয় দৈনিক দিনকাল পত্রিকার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও ব্যুরো চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব এবং নিউ ইয়র্কের আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সম্মানিত সদস্য।
শিক্ষাজীবনে তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ধানমন্ডি গভঃ বয়েজ হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু শহরের চাষাঢ়াস্থ ‘শহীদ জিয়া হল’টি আধুনিকায়নে ও পুনঃনির্মাণের জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সাথে, নারায়ণগঞ্জে প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি ‘বেগম খালেদা জিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ নামে স্থাপনের জন্য দাবি ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে উঠে আনিসুল ইসলাম সানি তাঁর জীবনের সিংহভাগ সময়ই বিলিয়ে দিয়েছেন দল, রাজনীতি আর নারায়ণগঞ্জের মাটি ও মানুষের কল্যাণে। চড়াই-উতরাই আর বন্ধুর রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে আজও তিনি কর্মীদের কাছে এক বিশ্বস্ত অভিভাবক এবং সততার প্রতীক। জীবনের ৬৬টি বসন্ত পেরিয়ে ৬৭ বছরে পদার্পণের এই বিশেষ ক্ষণে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং নারায়ণগঞ্জসহ দেশবাসীর হৃদয়ের গভীর থেকে নিঃস্বার্থ দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করেছেন। মানুষের এই ভালোবাসা আর আস্থাই তাঁর অতীত থেকে বর্তমান এবং বর্তমান থেকে আগামীর পথচলার অন্তহীন প্রেরণা। তার জন্মদিন উপলক্ষে মায়ের আঁচল সাহিত্য সামাজিক মৈত্রী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং দৈনিক দেশের আলোর বিভাগীয় সম্পাদক লেখক সাংবাদিক হারুন অর রশিদ সাগর এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।