নারায়ণগঞ্জের ২টি প্রাইভেটকার ও ১টি মাইক্রোবাস উদ্ধার সহ অন্তঃজেলা গাড়িচোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।
হারুন অর রশিদ সাগর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:-
নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা জজ কোর্ট সংলগ্ন পার্কিং থেকে চুরি হওয়া এক্স করোলা ( মডেল ২০০৬) রেজিস্ট্রেশন ঢাকা মেট্রো গ- ৩১-২৬ ২৬ গাড়িটি উদ্ধারের মধ্য দিয়ে একটি সক্রিয় অন্ত:জেলা গাড়ি চোর চক্রের তিন সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। তার সাথে সাথে তাদের তথ্যমতে আরো দুটি চোরাই গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার ২৭ জুন বেলা ১২:০০ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী।
পুলিশ জানায়, গত ২২ জুন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টের সামনে পার্কিংয়ে রাখা টয়োটা এক্স করোলা মডেল-২০০৬ এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো গ- ৩১-২৬ ২৬ গাড়িতে চানমারি নতুন কোচ সংলগ্ন পার্কে রেখে নাস্তা করতে যান গাড়ির মালিক মামলার বাড়ি মোহাম্মদ আরিফ পরবর্তীতে ফিরে এসে তিনি গাড়িটি পার্কিং করা স্থানে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোন সন্ধান না পেয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানা একটি চুরি মামলা দায়ের করেন
মামলার হওয়ার পর ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় চক্রের মূলহোতা ফতুল্লার দেলপাড়া-চিতাশাল এলাকা থেকে মুক্তার হোসেন ওরফে মুক্তা ৪৮ কে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের অপর দুই সদস্য মো. মোমিনুর রহমান ওরফে লিটন ৪২ এবং আলাউদ্দিন ৩৬ কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে চুরি হওয়া টয়োটা এক্স করোলা (মডেল ২০০৬) রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ঢাকা মেট্রো গ- ৩১-২৬ ২৬ গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
একই সঙ্গে তাদের হেফাজত থাকা দুটি গাড়ি একটি পুরাতন নোয়া মাইক্রোবাস ঢাকা মেট্রো-গ-১৪-৯২৩০ এবং একটি প্রাইভেটকার চট্টগ্রাম মেট্রো-ঘ-১-২৮০ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি গাড়ি চুরি এবং একটি মাদক মামলা। তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় পার্কিং ও নির্জন এলাকা থেকে গাড়ি চুরি করে নাম্বার প্লেট পরিবর্তন করে পাচার করত বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি মিজানুর রহমান মুন্সী আরো বলেন, মাত্র ৫ দিনের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আন্তঃজেলা চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে কোনো চোরচক্রের ঠাঁই হবে না। গাড়ি চুরি রোধে পার্কিং এলাকায় সিসিটিভি কাভারেজ বাড়ানো এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা এবং উদ্ধার হওয়া অন্যান্য গাড়ির প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের কাজ চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলে, আপনারা সাংবাদিকরা অনেক জানা না জানা তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করছেন সামনের দিকেও করবেন এটাই প্রত্যাশা করছি কারণ সাংবাদিক এবং পুলিশ একে অপরের সাথে পরিপূরক তাই অবশ্যই আমাদের সাথে আপনাদেরকে চাই।